এক রাতের জন্য বিয়ে। সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’—
এক রাতের জন্য বিয়ে।
সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’—
হিল্লা বলা হয় সাধারণত অন্য কারো কাছে যদি বিয়ে হয় সাধারণ উপায়ে। এর পর যদি কোনো কারণে তালাক হয়ে যায়, তাহলে নির্দিষ্ট ইদ্দত শেষ করে এবার স্বামীর জন্য হালাল হওয়াকেই ‘হালালা’ বলে।
কিন্তু বর্তমানে এটাকে নাটকে ভাড়াটিয়া বানিয়ে ফেলা হইছে যা জায়েজ নাই। এছাড়া আমি যেভাবে বর্ণনা করলাম সেভাবে যদি হয় তাহলে জায়েজ হবে।
আমাদের সমাজে প্রচলিত যে হিল্লা বিয়ে সেটি হলো এই যে, কোন স্ত্রীলোকের তিন তালাক হয়ে গেলে, সে তো আর তার স্বামীর জন্য জায়েজ থাকে না। এক্ষেত্রে বিধান হল, যতক্ষণ না উক্ত মহিলাটির আরেক স্থানে বিবাহ হয়, তারপর উক্ত স্বামী তাকে তালাক দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রথম স্বামীর জন্য উক্ত মহিলাটি জায়েজ হয় না। তাই একজন ব্যক্তির কাছে তালাক দেয়ার শর্তে মহিলাটিকে বিবাহ দেয়া হয়, তারপর উক্ত পুরুষ এক রাত উক্ত স্ত্রীর সাথে থেকে পরদিন তালাক দিয়ে দেয়। তারপর প্রথম স্বামী উক্ত মহিলাকে আবার বিয়ে করে থাকে। এই হলো আমাদের সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে।
❑ এখানে মাস’আলা দু’টি। যথা :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১) উপরোক্ত পদ্ধতিটি জায়েজ কি না?
২) উক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম স্বামীর জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটির বিবাহ জায়েজ হয় কি না?
❑ ১ম বিষয়টির জবাব :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
উক্ত পদ্ধতির হিল্লা বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম। যারা হিল্লে বিয়ে করে, এবং যার জন্য করে উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ : لَعَنِ اللَّهُ الْمُحِلَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَالْمُحَلَّلَةَ. (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب النكاح، في الرجل يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ فَيَتَزَوَّجُهَا رَجُلٌ لِيُحِلَّهَا لَهُ، رقم الحديث
হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হালালকারী, যার জন্য হালাল করা হল এবং যাকে করা হল, সবার উপর আল্লাহর অভিশাপ।
— (ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৭৩৬৪)
সুতরাং বুঝা গেল উপরোক্ত কর্মটি জায়েজ নয়; হারাম।
❑ ২য় প্রশ্নের জবাব :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরেকটি মাসআলা হলো, হিল্লে করার দ্বারা প্রথম স্বামীর জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হয় কি না? একটি বিষয় হারাম হওয়া মানে উক্ত হারাম কাজের মাধ্যমে সংঘটিত কাজটি সঠিক হয়নি বিষয়টি এমন নয়। যেমন: জিনা করা হারাম, তাই বলে কি জিনা করলে জিনা হয়নি? কাউকে হত্যা করা হারাম, তাই বলে কি হত্যা করলে সেটিকে হত্যা বলা হবে না?
তেমনি এভাবে হিল্লে করা হারাম, কিন্তু এভাবে হিল্লে করলেও উক্ত স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়।
যা হাদীসটির শব্দ থেকেই পরিস্কার। হাদীসে লক্ষ্য করুন, শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে “হালালকারী”। যা পরিস্কার বলছে এর দ্বারা স্ত্রী লোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়। যদি হালালই না হয়, তাহলে হিল্লেকারী লোকটি হালালকারী হয় কিভাবে? আর স্ত্রীলোকটিকে হাদীসে বলা হচ্ছে হালালকৃত। যদি মহিলাটি উক্ত হিল্লের মাধ্যমে প্রথম স্বামীর জন্য হালালই না হয়, তাহলে সে হালালকৃত হয় কিভাবে?
একইভাবে প্রথম স্বামীর জন্য হাদীসে শব্দ ব্যবহৃত হলো, “যার জন্য হালাল করা হয়”। যা পরিস্কার প্রমাণ করে এটি হারাম পদ্ধতি হলেও এর দ্বারা স্ত্রীটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়। যদি হালালই না হতো, তাহলে হাদীসে যার জন্য হালাল করা হয় বলার কি অর্থ থাকে।
সুতরাং হাদীস দ্বারাই পরিস্কার বুঝা যায় যে, কাজটি হারাম হলেও এর দ্বারা উক্ত স্ত্রী লোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়। যদিও কাজটি অভিশাপযোগ্য এবং নিন্দনীয় ও বর্জনীয় কাজ।
পবিত্র কালামুল্লায়ে উক্ত বিষয়টি পরিস্কার এসেছে। দেখুন-
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ [٢:٢٣٠]
তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। —(সূরা বাকারা-২৩০)
সুতরাং বুঝা গেল হিল্লা করা হারাম কাজ। এটি যারা করে তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ নিপতিত হয়। তবে এর দ্বারা স্ত্রী লোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়।
❑ আমাদের এখানে এক ভাই তার স্ত্রী কে তিন তালাক দেয়। এরপর তিন মাস পর ওই ভাবিকে অন্য এক জনের সাথে বিয়ে দেয়, এক রাতের জন্য। তাদের মধ্যে নাকি সহবাস ও হয়েছে। পরের দিন ওই লোক তালাক দেয়। পরে তিন মাস পর আবার ওই ভাই ভাবিকে নতুন করে বিয়ে করে। এরপর তাদের সন্তান ও হয়েছে।
☞ আমার প্রশ্ন হল :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১. তাদের এগুলা তো পরিকল্পনা করে। এই হিল্লা তো হারাম। এটা হারাম হলেও কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়েছে?
২. এগুলা হিল্লা করার পর যে সন্তান হয়েছে, তা কি তাদের সন্তান, না কি জারজ সন্তান হবে?
৩. এগুলা হিল্লা না করে তারা যদি ড. জাকির নায়েক, রাজ্জাক বিন ইউসুফ মতে এক মাস এ যত তালাক হক তা এক তালাক হবে এই মত গ্রহণ করতো, তাহলে কি তাদের জিনা হতো।
দয়া করে এগুলোর উত্তর দিবেন।
❑ উত্তর :
▬▬▬▬▬▬☞
১. এইভাবে চুক্তি করে বিয়ে করা হারাম। এদের জন্য আল্লাহর নবী (ﷺ) লানত করেছেন। যার জন্য নবীজি লানত করেছেন তার কতটুকু ভালো হবে বুঝেন। কিন্তু প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে।
২. এগুলো বৈধ সন্তান।
৩. আমাদের হানাফি ফিকহ মতে যে সংখ্যক তালাক দিবে সেই সংখ্যক তালাকই পতিত হবে। তাই উনাদের কথা মতো মান্য করা যাবে না।
আর হ্যাঁ যদি করেন, তাহলে তারা যেই ফিকহ এর উপর আমল করেন সেই ফিকহের পুরোটার উপর আমল করতে হবে। কারণ, সকল ফিকহের মাঝেই কঠিনতা আছে।
তাই যেখানে নিজের সুবিধা সেখানে আমি, এটা ইসলাম জায়েজ বলে না।
☞ আপনি তো ঐ হিল্লা শব্দটাই রাখলেন।
কিন্তু হিল্লা শব্দটা কুরআন হাদিসের কোথাও পেলাম না।
বিষয় টি হলো, কোনো মহিলাকে ৩ তালাক দিয়ে ফেললে সে, ইদ্দত শেষ করে অন্য যে কোনো লোকের সাথে অন্য ৮/১০ টা বিয়ের মতো (আরও স্পষ্ট করে বললে, এই মহিলা+পুরুষ যেভাবে বিয়ে করেছিল সেই ভাবে) বিয়ে করে, সেখান থেকে যদি এই মহিলারা তালাক নিয়ে আসে, বা বেটা নিজেই তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে ইদ্দত পালন করে, তার আগের স্বামীসহ অন্য সকল পুরুষের সাথে বিয়ে বসতে পারবেন। এটাকেই হালালা বলে।
কিন্তু কি একটা নিকৃষ্ট শব্দ বানিয়ে ফেলছে।
আশা করি বুঝেছেন।
— মু. আফফান বিন শারফুদ্দিন
☞ এই পেইজটি আপনার মহা উপকারের জন্য।
☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে Guidelines to Jannah কে ফলো দিয়ে রাখুন।👍🌻💛
সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করে দিন।

Comments
Post a Comment